ফিডেলিটি ইন্টারন্যাশনাল

করপোরেট খাতে আকাশছোঁয়া বেতনে লাগাম টানার পরামর্শ

করপোরেট কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পদে আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক দেয়া যেন প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।

করপোরেট কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পদে আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক দেয়া যেন প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিল শীর্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ফিডেলিটি ইন্টারন্যাশনাল। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কোম্পানি চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। যার আলোচ্য হলো, অতিরিক্ত বেতন প্যাকেজ যাতে অনুমোদন না পায় সেদিকে নজর দিতে হবে। মূলত করপোরেট গভর্ন্যান্স মানদণ্ড কঠোর করতে ফিডেলিটির বড় একটি উদ্যোগের অংশ এটি। খবর এফটি।

১ লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ফিডেলিটি। বিনিয়োগ রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোর কাছে চিঠিটি পাঠিয়েছে তারা। চিঠিতে নির্বাহীদের বেতন ও কর্মদক্ষতা বিষয়ে শৃঙ্খলা তৈরি এবং বোর্ডের সঙ্গে শক্তিশালী সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বোর্ডগুলোর মূলধন বরাদ্দ ও অধিগ্রহণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হওয়ার প্রত্যাশা করছে ফিডেলিটি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক বেতন প্যাকেজ প্রস্তাবে নমনীয় থাকা উচিত। কিন্তু গত এক বছরে উদ্বেগের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে পারফরম্যান্সভিত্তিক বেতননীতি।

ফিডেলিটি উল্লেখ করেছে, সাধারণত আর্থিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে নির্বাহীদের বেতন কাঠামোর সম্পর্ক থাকে। কিন্তু এখন এর ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, বিষয়টি আবারো কার্যকর হবে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, পারফরম্যান্স খারাপ হলে কিছু কোম্পানি নির্বাহীদের জন্য ঝুঁকি হ্রাস বাবদ বোনাস বা সুবিধা দেয়। আবার কিছু কোম্পানি এমন পুরস্কার দেয়, যা কঠিন লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

যুক্তরাজ্যে তালিকাভুক্ত শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের বেতন গত অর্থবছরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। ইনস্টিটিউশনাল শেয়ারহোল্ডার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, এফটিএসই ১০০ কোম্পানিগুলোয় মধ্যম বেতন ১১ শতাংশ বেড়ে ৬৫ লাখ ডলার হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রধান নির্বাহীদের বেতন বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে মার্কিন মধ্যম বেতন ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা যুক্তরাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি।

যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ও তহবিল ব্যবস্থাপকদের সংগঠন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএ) গত বছর বেতনসংক্রান্ত নির্দেশনা সংশোধন করেছে। এর লক্ষ্য হলো কোম্পানিগুলো শীর্ষ নির্বাহীদের উচ্চ বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে যেন নমনীয় নীতির সুবিধা পায়। যদিও বড় আকারে বেতন বৃদ্ধির বিরুদ্ধে অবস্থান ছিল শেয়ারহোল্ডারদের।

আইএ তখন বলেছিল, তারা বেতন কাঠামোকে সরল করেছে। এতে কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী বেতননীতি নির্ধারণ করার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল থাকতে পারবে।

যুক্তরাজ্যের নতুন নিয়মে কোম্পানির প্রধানরা শেয়ারহোল্ডারের অনুমতি ছাড়া বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ফলে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোম্পানির নীতি ও মূলধন ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে গেছে। এ কারণে ফিডেলিটি তাদের বিনিয়োগের আওতায় থাকা কোম্পানিগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে।

আরও